Bangla text

নিকস, সুতনি এমজে আর ইউনিকোডের পার্থক্য কী?

ইউনিকোড হলো লেখা জমা রাখার নিয়ম, কোনো ফন্ট নয়। নিকস একটা ইউনিকোড বাংলা ফন্ট, আর সুতনি এমজে বিজয়ের ফন্ট, যা ইংরেজি অক্ষরের জায়গায় বাংলা এঁকে দেখায়। ওয়েবসাইট, ফেসবুক, ফোন আর অনলাইন ফর্মে ইউনিকোড লাগে; সুতনি এমজে লাগে মূলত বিজয়ে চলা প্রেস আর ডিজাইনের কাজে।

পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৪ মিনিট

অফিসে কেউ বলেন "নিকসে লিখুন"। প্রেস বলে "সুতনিতে দিন"। ওয়েবসাইটের কাজ যিনি করেন, তিনি বলেন "ইউনিকোডে পাঠান"। শুনে মনে হয় তিনজন তিনটা আলাদা জিনিস চাইছেন। আসলে এখানে প্রশ্ন দুটো। এক, লেখাটা কম্পিউটারে কীভাবে জমা আছে। দুই, পর্দায় সেটা দেখতে কেমন। প্রথমটা এনকোডিং, দ্বিতীয়টা ফন্ট।

এই দুটো আলাদা করে বুঝলে বাকি সব ধাঁধা মিটে যায়।

কেন এমন হয়: লেখা এক জিনিস, ফন্ট আরেক জিনিস

একটা উদাহরণ ধরুন। একই চিঠি দুজন মানুষ হাতে লিখলেন। হাতের লেখা আলাদা, কিন্তু কথাগুলো একই। ফন্ট হলো সেই হাতের লেখা। আর কথাগুলো হলো জমা থাকা লেখা।

ইউনিকোড লেখা জমা রাখার একটা নিয়ম। এতে প্রতিটা বাংলা অক্ষরের নিজস্ব নম্বর আছে, পুরো পৃথিবীতে একই। যেমন ক-এর নম্বর U+0995। যেকোনো ইউনিকোড বাংলা ফন্ট এই নম্বর দেখে ক আঁকে। ফন্ট বদলালে অক্ষরের চেহারা বদলায়, কিন্তু ক ক-ই থাকে।

বিজয় অন্যভাবে চলে। সেখানে ক জমা থাকে ইংরেজি K হিসেবে। সুতনি এমজে (SutonnyMJ) ফন্ট K-এর জায়গায় ক-এর ছবি আঁকে। "আমি" জমা থাকে Avwg হিসেবে। এই লেখায় ফন্ট বদলে Arial দিলে পর্দায় সোজা Avwg দেখা যায়।

মানে ইউনিকোডে অর্থটা থাকে লেখার ভেতরে। বিজয়ে অর্থটা থাকে ফন্টের ভেতরে।

ইউনিকোড (যেমন নিকস ফন্টে)বিজয় (সুতনি এমজে ফন্টে)
"আমি" যেভাবে জমা থাকেআ, ম, ি: তিনটা বাংলা অক্ষরAvwg: চারটা ইংরেজি অক্ষর
ফন্ট বদলালেলেখা একই থাকে, চেহারা বদলায়ইংরেজি হিজিবিজি হয়ে যায়
ফেসবুক, ইমেইল, ফোনেঠিক দেখায়ইংরেজি হিজিবিজি দেখায়
বাংলায় লিখে সার্চকাজ করেখুঁজে পাওয়া যায় না
অন্য কম্পিউটারে ফন্ট না থাকলেঅন্য কোনো বাংলা ফন্টে দেখায়ইংরেজি হিজিবিজি দেখায়

নিকস কী

নিকস (Nikosh) একটা ইউনিকোড বাংলা ফন্ট। অনেক সরকারি অফিসে এখন নিকস ফন্টে কাজ হয়। নিকসে লেখা মানে ইউনিকোডে লেখা, শুধু অক্ষরগুলো দেখতে নিকসের মতো।

তাই যখন কেউ খোঁজেন "বিজয় থেকে নিকসে কনভার্ট", তার আসল মানে দুটো কাজ: লেখাটা বিজয় থেকে ইউনিকোডে বদলানো, তারপর ফন্ট নিকস দেওয়া। Nirmala UI, কালপুরুষ বা অন্য যেকোনো ইউনিকোড বাংলা ফন্টেও একই লেখা দিব্যি পড়া যায়।

সুতনি এমজে কী

সুতনি এমজে বিজয়ের ফন্ট। এটা শুধু বিজয় লেখার সাথে চলে। যে কম্পিউটারে ফন্টটা নেই, সেখানে বিজয় ফাইল খুললে বাংলার বদলে ইংরেজি অক্ষর দেখা যায়। বিজয় ফাইল ইমেইলে পাঠালে প্রাপক প্রায়ই এই অভিযোগ করেন।

উল্টোটাও খাটে না। সুতনি এমজে ইউনিকোড বাংলা চেনে না। ইউনিকোড লেখায় সুতনি এমজে দিলে কম্পিউটার হয় অন্য কোনো বাংলা ফন্টে দেখায়, নয়তো লেখা ঠিকমতো দেখায় না।

কোথায় কোনটা লাগে

  • অনলাইন ফর্ম, ওয়েবসাইট, ফেসবুক, ইমেইল, মেসেজ: ইউনিকোড। ফর্ম ফন্ট নেয় না, শুধু অক্ষর নেয়। বিজয়ে লেখা নাম পেস্ট করলে ফর্মে জমা হয় iwng-এর মতো ইংরেজি অক্ষর, "রহিম" নয়।
  • ফোন: ইউনিকোড। ফোনের বাংলা কিবোর্ড ইউনিকোডেই লেখে। ফোনে বিজয় লেখা পেলে কী করবেন, তা এখানে: মোবাইলে বিজয়ে লেখা ইউনিকোডে রূপান্তর।
  • অফিসের চিঠি, নোটিশ, এক্সেলের তালিকা: ইউনিকোড রাখাই ভালো, যাতে পরে খোঁজা আর সাজানো যায়। এক্সেলের জন্য আলাদা লেখা: এক্সেলে বিজয়ে লেখা নাম-ঠিকানা ইউনিকোডে। তবে যেখানে কাগজ জমা দেবেন, তাঁরা নির্দিষ্ট কোনো ফন্ট চাইলে সেটাই মানুন।
  • প্রেস আর ডিজাইন: অনেক ছাপাখানা এখনো বিজয় আর সুতনি এমজে চায়। পাঠানোর আগে জিজ্ঞেস করে নিন। বিজয়ে বদলানোর নিয়ম: প্রেসে পাঠানোর আগে ইউনিকোড থেকে বিজয়।

আপনার লেখা কোনটা, বুঝবেন কীভাবে

সবচেয়ে সহজ পরীক্ষা: লেখাটার খানিকটা সিলেক্ট করে ফন্ট Arial দিন।

  • Avwg-এর মতো ইংরেজি হিজিবিজি হয়ে গেলে লেখাটা বিজয়ে।
  • বাংলাই থাকলে, শুধু চেহারা বদলালে, লেখাটা ইউনিকোডে।

আরেকটা উপায়: লেখাটা বিজয় থেকে ইউনিকোড বক্সে পেস্ট করুন। লেখাটা আগে থেকেই ইউনিকোড হলে টুল সেটা ধরে ফেলে আর উল্টো দিকে বদলানোর প্রস্তাব দেয়।

ধাপে ধাপে: বিজয় ফাইল থেকে নিকসে

  1. বিজয় থেকে ইউনিকোড পেজে ওয়ার্ড (.docx), এক্সেল (.xlsx) বা পাওয়ারপয়েন্ট (.pptx) ফাইলটা দিন।
  2. টুল শুধু বিজয় ফন্টের লেখা ইউনিকোডে বদলায় আর ফন্ট Nirmala UI করে দেয়। ইংরেজি লেখা যেমন আছে থাকে।
  3. ফাইলটা ডাউনলোড করে ওয়ার্ডে খুলুন।
  4. Ctrl+H চেপে "More" খুলুন। "Find what" ঘর খালি রেখে তাতে ক্লিক করুন, তারপর Format থেকে Font বেছে Nirmala UI দিন। "Replace with" ঘরও খালি রেখে একইভাবে Nikosh দিন। তারপর "Replace All"।

এতে শুধু বাংলা লেখার ফন্ট নিকস হয়, ইংরেজি লেখার ফন্টে হাত পড়ে না। অল্প লেখা হলে বক্সে পেস্ট করে বদলান, তারপর ওয়ার্ডে নিকস ফন্ট দিন।

আপনার লেখা বা ফাইল এই ব্রাউজারেই থাকে। আমাদের সার্ভারে কিছু যায় না।

সাবধানতা ও সীমা

  • শুধু ফন্ট বদলালে বিজয় ইউনিকোড হয় না। এটাই সবচেয়ে বেশি হওয়া ভুল। সুতনি এমজের লেখা সিলেক্ট করে নিকস দিলে পর্দায় Avwg-এর মতো ইংরেজি অক্ষর চলে আসে। আগে রূপান্তর, তারপর ফন্ট।
  • নিকস না থাকলেও ইউনিকোড লেখা ভাঙে না। প্রাপকের কম্পিউটারে নিকস না থাকলে লেখা অন্য বাংলা ফন্টে দেখায়, কিন্তু পড়া যায়।
  • বিজয় ছাড়া অন্য পুরনো পদ্ধতি। বিজয়ের বাইরেও কিছু পুরনো বাংলা লেখার পদ্ধতি ছিল। এই টুল বিজয় (সুতনি এমজে ধরনের ফন্ট) থেকে রূপান্তর করে। অন্য পদ্ধতির লেখায় অনেক অক্ষর অচেনা থেকে যাবে। টুল সেগুলো ফেলে না দিয়ে দাগিয়ে দেখায়, তাতে বোঝা যায় লেখাটা বিজয়ের নয়।

যা প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়

নিকস কি ইউনিকোড ফন্ট?

হ্যাঁ। নিকসে লেখা মানে ইউনিকোডে লেখা। তাই নিকসের লেখা ফেসবুক, ইমেইল বা অনলাইন ফর্মে পেস্ট করলে ঠিকঠাক আসে।

সুতনি এমজের লেখা সিলেক্ট করে নিকস দিলাম, ইংরেজি হয়ে গেল কেন?

কারণ লেখাটা বিজয়ে, আর বিজয়ে বাংলা অক্ষর ইংরেজি অক্ষর হিসেবে জমা থাকে। ফন্ট বদলালে সেই ইংরেজি অক্ষরগুলোই দেখা যায়। আগে বিজয় থেকে ইউনিকোডে রূপান্তর করুন, তারপর নিকস দিন।

অনলাইন আবেদন ফর্মে কোনটায় লিখব?

ইউনিকোডে। ফর্ম শুধু অক্ষর নেয়, ফন্ট নেয় না। বিজয়ে লেখা নাম পেস্ট করলে ফর্মে বাংলা নয়, ইংরেজি অক্ষর জমা হয়।

প্রেসের জন্য কোনটা?

অনেক ছাপাখানা এখনো বিজয় আর সুতনি এমজে চায়। আগে জিজ্ঞেস করে নিন। বিজয় লাগলে ইউনিকোড থেকে বিজয় টুলে বদলে সুতনি এমজে ফন্ট দিন।

আমার লেখা বিজয়ে না ইউনিকোডে, কীভাবে বুঝব?

লেখার খানিকটা সিলেক্ট করে ফন্ট Arial দিন। ইংরেজি হিজিবিজি হয়ে গেলে বিজয়, বাংলাই থাকলে ইউনিকোড।