Bangla text

মোবাইলে বিজয়ে লেখা ইউনিকোডে রূপান্তর করবেন কীভাবে, অ্যাপ ছাড়াই?

ফোনের ব্রাউজারে বিজয় থেকে ইউনিকোড পেজ খুলে হিজিবিজি লেখাটা পেস্ট করুন; সাথে সাথে বাংলা হয়ে যাবে। তারপর কপি করে যেখানে দরকার সেখানে দিন। কিছু ইনস্টল করতে হয় না।

পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৪ মিনিট

মেসেজে অফিসের নোটিশ এসেছে। বাংলার বদলে দেখাচ্ছে GK mfv AbywôZ n‡e|। অথচ যিনি পাঠিয়েছেন, তাঁর কম্পিউটারে লেখা ছিল "এক সভা অনুষ্ঠিত হবে।" ফোন খারাপ হয়নি, লেখাও ভুল হয়নি। লেখাটা বিজয়ে টাইপ করা, আর ফোন বিজয় পড়তে পারে না।

এটা ঠিক করতে কোনো অ্যাপ নামানোর দরকার নেই। ফোনের ব্রাউজারেই হয়ে যায়।

কেন ফোনে এমন দেখায়

বিজয়ে লেখা আসলে ইংরেজি অক্ষর। কম্পিউটারে সুতনি এমজে (SutonnyMJ) ফন্ট সেই ইংরেজি অক্ষরের জায়গায় বাংলা এঁকে দেখায়। ফোনে সুতনি এমজে নেই। ফোনের কিবোর্ড, মেসেজ, ফেসবুক, সবই চলে ইউনিকোডে। তাই ফোন লেখাটা যা, তা-ই দেখায়: ইংরেজি অক্ষরের সারি।

সমাধান একটাই: লেখাটা ইউনিকোডে বদলে নেওয়া। একবার বদলালে সেটা যেকোনো ফোন, যেকোনো অ্যাপে ঠিকঠাক দেখাবে।

উল্টো ঘটনাও ঘটে। ফোনে লেখা বাংলা কেউ কম্পিউটারে বিজয়ের ফাইলে পেস্ট করে সুতনি এমজে ফন্ট দিলে সেটাও ঠিকমতো দেখায় না, কারণ ফোনের লেখা ইউনিকোডে। তখন কাজটা উল্টো দিকে: ইউনিকোড থেকে বিজয়।

হিজিবিজিটা বিজয় কি না, চিনবেন কীভাবে

সব হিজিবিজিই বিজয় নয়। বিজয় লেখার কয়েকটা চেনা লক্ষণ আছে:

  • বাক্যের শেষে দাঁড়ির জায়গায় সোজা দাগ |।
  • বারবার v আসে, কারণ বিজয়ে আ-কার হলো v।
  • শব্দের শুরুতে বা মাঝে † আর ‡ চিহ্ন, এগুলো আসলে এ-কার।
  • কিছু শব্দ খুব ঘনঘন আসে: Ges মানে "এবং", Kiv মানে "করা", Rb¨ মানে "জন্য"।

এর দু-তিনটা মিলে গেলে লেখাটা প্রায় নিশ্চিতভাবে বিজয়ে। আর ঠিক বুঝতে না পারলেও সমস্যা নেই: পেস্ট করে দেখুন, ফলাফলেই বোঝা যাবে।

ধাপে ধাপে: মেসেজ বা পোস্টের লেখা

  1. হিজিবিজি লেখাটার ওপর আঙুল চেপে ধরে রাখুন। "কপি" চাপুন। অনেক মেসেজে পুরো মেসেজ একবারে কপির অপশন থাকে।
  2. ফোনের ব্রাউজার (যেটা সবসময় ব্যবহার করেন) খুলে বিজয় থেকে ইউনিকোড পেজে যান।
  3. লেখার বক্সে আঙুল চেপে ধরে "পেস্ট" চাপুন।
  4. পেস্ট করার সাথে সাথেই নিচে বাংলা চলে আসে। আলাদা কোনো বাটন চাপতে হয় না।
  5. বাংলা লেখাটা কপি করুন। তারপর মেসেজ, ফেসবুক বা যেখানে দরকার, সেখানে পেস্ট করুন।

আপনার লেখা এই ব্রাউজারেই থাকে। আমাদের সার্ভারে কিছু যায় না।

ভুল করে আগে থেকেই বাংলা (ইউনিকোড) লেখা পেস্ট করলে টুল সেটা বুঝে ফেলে আর উল্টো দিকে বদলানোর প্রস্তাব দেয়। উল্টো দিকের কাজ, মানে ফোনের বাংলা লেখা প্রেসের জন্য বিজয়ে বদলাতে হলে, ইউনিকোড থেকে বিজয় পেজে যান।

একটা ছোট সুবিধা: ব্রাউজারের মেনু থেকে পেজটা হোম স্ক্রিনে যোগ করে রাখতে পারেন। পরের বার অ্যাপের মতো এক চাপেই খুলবে, কিছু ইনস্টল না করেই।

ফাইল হলে: ওয়ার্ড, এক্সেল বা পিডিএফ

অনেক সময় লেখা আসে পুরো ফাইল হিসেবে। ফোনে খুলে দেখা যায় সব ইংরেজি অক্ষর।

  • ওয়ার্ড (.docx), এক্সেল (.xlsx), পাওয়ারপয়েন্ট (.pptx) বা .txt: ফাইলটা আগে ফোনে ডাউনলোড করে রাখুন। তারপর টুলের ফাইল অংশে গিয়ে ফোনের ডাউনলোড ফোল্ডার থেকে ফাইলটা বেছে দিন। টুল শুধু বিজয় ফন্টের লেখা বদলায়, ইংরেজি লেখায় হাত দেয় না। বদলানো ফাইল ডাউনলোড হয়ে যায়।
  • পিডিএফ: সরকারি বা অফিসের অনেক পিডিএফ বিজয়ে লেখা ফাইল থেকে বানানো। সেখান থেকে লেখা কপি করলে আসে cÖKvwkZ-এর মতো হিজিবিজি, যার মানে "প্রকাশিত"। টুলের পিডিএফ অংশে ফাইলটা দিন। টুল পিডিএফের ভেতরের লেখা পড়ে, বিজয় ফন্টের লেখা বাংলা ইউনিকোডে বদলায়। তারপর লেখাটা কপি করতে পারেন, বা .txt কিংবা .docx হিসেবে নামাতে পারেন।

রূপান্তরের জন্য ফোনে কিছু বসাতে হয় না। তবে ওয়ার্ড বা এক্সেল ফাইল খুলে দেখতে ফোনে সেই ধরনের ফাইল খোলার ব্যবস্থা থাকতে হবে, সেটা আলাদা কথা।

সাবধানতা ও সীমা

  • ইংরেজি শব্দ মেশানো থাকলে। বিজয় লেখা যেহেতু ইংরেজি অক্ষরেই, পেস্ট করা লেখায় কোনটা আসল ইংরেজি শব্দ, তা আলাদা করে বোঝা কঠিন। যেমন কোনো ইমেইল ঠিকানা বা ইংরেজি নাম। "ইংরেজি শব্দ রাখুন" অপশন চালু রাখুন। টুল যেসব শব্দ ইংরেজি ধরে রেখে দেয়, সেগুলোর তালিকা দেখায়। কোনোটা ভুল ধরলে ট্যাপ করে বদলে দিন।
  • অচেনা অক্ষর। টুল কোনো অক্ষর চিনতে না পারলে সেটা মুছে ফেলে না, দাগিয়ে দেখায়। কতগুলো শব্দ বদলানো হলো, সেটাও দেখায়। দাগানো জায়গাগুলো একবার দেখে নিন।
  • স্ক্যান করা পিডিএফ। কাগজ স্ক্যান করে বানানো পিডিএফে লেখা থাকে না, থাকে শুধু ছবি। সেখান থেকে এই টুল কিছু পড়তে পারবে না।
  • লম্বা লেখা। অনেক বড় লেখাও ফোন আটকে না দিয়ে রূপান্তর হয়। তবে পুরনো ফোনে বড় ফাইলে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
  • সাজসজ্জা। মেসেজ থেকে কপি করা লেখায় বোল্ড বা টেবিল থাকে না। টেবিল আর সাজ ঠিক রাখতে চাইলে পুরো ফাইলটা দিন।
  • যিনি পাঠান, তাঁকেও জানান। একই অফিস বা দোকান থেকে প্রায়ই বিজয় লেখা এলে তাঁদের অনুরোধ করুন, পাঠানোর আগে একবার ইউনিকোডে বদলে নিতে। কম্পিউটারেও কাজটা এই একই পেজে হয়। তাহলে যিনিই পান, ফোনে হোক বা কম্পিউটারে, সবাই সরাসরি বাংলা পড়তে পারবেন।

একই লেখা একেক ফাইলে একেক রকম কোডে কেন থাকে, সে গল্প এখানে: পুরনো বিজয় আর নতুন বিজয় কোড। আর নিকস, সুতনি এমজে, ইউনিকোডের পার্থক্য: সহজ ভাষায় পার্থক্য।

যা প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়

মোবাইলে বিজয় থেকে ইউনিকোড করতে কোনো অ্যাপ লাগে?

না। ফোনের ব্রাউজারে বিজয় থেকে ইউনিকোড পেজ খুলে লেখা পেস্ট করলেই হয়। কিছু ইনস্টল করতে হয় না।

ফোনে বাংলা মেসেজ ইংরেজি অক্ষরে দেখায় কেন?

লেখাটা বিজয়ে টাইপ করা। বিজয় লেখা আসলে ইংরেজি অক্ষর, কম্পিউটারের সুতনি এমজে ফন্ট সেটাকে বাংলা দেখায়। ফোনে সেই ফন্ট নেই, তাই আসল ইংরেজি অক্ষরগুলোই দেখা যায়।

ফোন থেকে পুরো ওয়ার্ড ফাইল বদলানো যায়?

হ্যাঁ। ফাইলটা ফোনে ডাউনলোড করে টুলের ফাইল অংশে বেছে দিন। শুধু বিজয় ফন্টের লেখা বদলায়, ইংরেজি লেখা যেমন আছে থাকে।

পিডিএফ থেকে কপি করা বাংলা হিজিবিজি কেন, আর ফোনে ঠিক করা যায়?

পিডিএফটা বিজয়ে লেখা ফাইল থেকে বানানো, তাই ভেতরের লেখাও বিজয় কোডে। টুলের পিডিএফ অংশে ফাইলটা দিলে বিজয় লেখা বাংলা ইউনিকোডে বদলে যায়, তারপর কপি বা ডাউনলোড করতে পারেন।

আমার লেখা কি কোথাও চলে যায়?

না। রূপান্তর হয় ফোনের ব্রাউজারেই। লেখা বা ফাইল আমাদের সার্ভারে যায় না।