Bangla text
প্রেসে পাঠানোর আগে ইউনিকোড লেখা বিজয়ে রূপান্তর করবেন কীভাবে?
লেখাটা ইউনিকোড থেকে বিজয় টুলে বদলে বাংলা অংশে সুতনি এমজে ফন্ট দিন, ইংরেজি শব্দে ইংরেজি ফন্ট রাখুন, তারপর কোটেশন, অঙ্ক আর কঠিন যুক্তাক্ষরগুলো মিলিয়ে দেখে পাঠান।
লেখা তৈরি হয়েছে ইউনিকোডে: ফোনে, নতুন কম্পিউটারে, বা কারও ইমেইল থেকে কপি করে। প্রেস বলছে, "বিজয়ে দিন, সুতনিতে।" অনেক ছাপাখানায় এখনো মেকআপ আর ডিজাইনের কাজ চলে বিজয় আর সুতনি এমজে (SutonnyMJ) দিয়ে। তাই পাঠানোর আগে লেখাটা বিজয়ে বদলাতে হয়।
বদলানো কঠিন কিছু নয়। ঝামেলা হয় পাঁচটা জায়গায়, আর সেগুলো ধরা পড়ে সাধারণত ছাপা হয়ে যাওয়ার পর। এই লেখায় সেই পাঁচটা জায়গা, আর পাঠানোর আগে কীভাবে মিলিয়ে দেখবেন।
কেন এমন হয়
ইউনিকোডে প্রতিটা বাংলা অক্ষরের নিজস্ব কোড আছে। বিজয়ে তা নেই। সেখানে বাংলা অক্ষর বসে ইংরেজি অক্ষর আর কিছু চিহ্নের জায়গায়, আর সুতনি এমজে ফন্ট সেগুলোকে বাংলা করে দেখায়। "আমি বাংলায় গান গাই।" বিজয়ে হয় Avwg evsjvq Mvb MvB|। দাঁড়িটাও হয়ে গেছে |।
তাই রূপান্তরের পর লেখাটা খালি চোখে ইংরেজি হিজিবিজি লাগবে। এটাই স্বাভাবিক। সুতনি এমজে ফন্ট দিলে তবেই বাংলা দেখাবে। সমস্যা হলো, ফন্টটা লেখার সব অংশে একই রকম খাটে। কোটেশন, অঙ্ক, ইংরেজি শব্দ, সবকিছুকেই সে বাংলা অক্ষর হিসেবে আঁকতে চায়। ভুলগুলো আসে সেখান থেকেই।
ধাপে ধাপে
- ইউনিকোড থেকে বিজয় পেজ খুলুন।
- লেখাটা বক্সে পেস্ট করুন। সাথে সাথেই বিজয় কোড চলে আসে। ভুল করে বিজয় লেখা পেস্ট করলে টুল সেটা ধরে ফেলে আর উল্টো দিকে বদলানোর প্রস্তাব দেয়।
- ফলাফল কপি করে ওয়ার্ড বা ডিজাইনের সফটওয়্যারে পেস্ট করুন।
- বাংলা অংশ সিলেক্ট করে ফন্ট SutonnyMJ দিন। যে কম্পিউটারে কাজ হবে, সেখানে ফন্টটা ইনস্টল থাকতে হবে।
- ইংরেজি শব্দগুলো আলাদা করে সিলেক্ট করে Times New Roman বা Arial-এর মতো কোনো ইংরেজি ফন্ট দিন।
- নিচের পাঁচটা জিনিস মিলিয়ে দেখুন, তারপর পাঠান।
লেখাটা যদি ওয়ার্ড ফাইলে (.docx) থাকে, পুরো ফাইলটাই দিন। টুল শুধু বাংলা লেখা বিজয়ে বদলায় আর সেই লেখায় সুতনি এমজে ফন্ট বসিয়ে দেয়। ইংরেজি লেখা নিজের ফন্টেই থাকে, তাই ৪ আর ৫ নম্বর ধাপ হাতে করতে হয় না। পাওয়ারপয়েন্ট (.pptx) আর এক্সেল (.xlsx) ফাইলেও একইভাবে কাজ হয়।
আপনার লেখা বা ফাইল এই ব্রাউজারেই থাকে। আমাদের সার্ভারে কিছু যায় না।
পাঠানোর আগে যে পাঁচটা জিনিস মিলিয়ে দেখবেন
১. কোটেশন চিহ্ন
ইউনিকোডের “স্বাধীনতা” বিজয়ে হওয়া উচিত Ò¯^vaxbZvÓ। মানে কোটেশনের জন্য বিজয়ের আলাদা কোড Ò আর Ó। একক কোটেশন হয় Ô আর Õ।
কেন এটা জরুরি? কারণ সুতনি এমজে ফন্টে বাঁকা কোটেশনের কোডগুলো আসলে বাংলা অক্ষরের টুকরো। “ দিয়ে আঁকা হয় রু-এর উ-কার (i“), ” দিয়ে চ্ (ইচ্ছা = B”Qv), ’ দিয়ে ্থ (ব্যবস্থা = e¨e¯’v), আর ‘ দিয়ে ্তু (বস্তুত = e¯‘Z)। কোনো কনভার্টার কোটেশন না বদলে রেখে দিলে ছাপায় কোটেশনের জায়গায় এসব টুকরো বসে যায়।
২. অঙ্ক
বিজয়ে বাংলা অঙ্কও ইংরেজি অঙ্ক দিয়ে লেখা হয়। "তারিখ: ১৫/০৮/২০২৬" হয় ZvwiL: 15/08/2026, আর সুতনি এমজে সেটাকে বাংলা অঙ্কে দেখায়। স্মারক নম্বরও একই: ¯§viK bs: 37.00.0000.078.18.001.26-154।
উল্টো ঝামেলাও আছে। লেখার ভেতরে কোনো সংখ্যা যদি ইংরেজি অঙ্কেই ছাপা দরকার হয় (যেমন ইংরেজি বাক্যের ভেতরে কোনো সাল), সুতনি এমজে সেটাকেও বাংলা বানিয়ে দেবে। ওই সংখ্যাগুলোতে ইংরেজি ফন্ট দিন।
৩. চোখে পড়ার মতো হসন্ত
ভালো রূপান্তরে যুক্তাক্ষর পুরো একটা আকারে বসে। দুর্বল রূপান্তরে অক্ষর দুটো আলাদা হয়ে মাঝখানে একটা হসন্ত (্) দেখা যায়, বা যুক্তাক্ষর ভেঙে দুটো আলাদা অক্ষর হয়ে যায়।
| শব্দ | ঠিক বিজয় কোড | ভুল রূপান্তর | ছাপায় যা দেখায় |
|---|---|---|---|
| সূক্ষ্ম | m~² | m~ÿ&g | সূক্ষ্ম |
| ফেব্রুয়ারি | †deªæqvwi | ‡de&i“qvwi | ফেব্রুয়ারি |
| স্বাস্থ্য | ¯^v¯’¨ | ¯^vm_¨ | স্বাসথ্য |
বিজয়ে & মানে দৃশ্যমান হসন্ত। বাংলা শব্দের মাঝখানে & দেখলেই সন্দেহ করুন।
৪. লুকানো অক্ষর
কিছু কনভার্টার বিজয় লেখার ভেতরে ইউনিকোডের কোনো চিহ্ন রেখে দেয়। যেমন "বাংলায়" বিজয়ে হওয়ার কথা evsjvq। কিন্তু কোনো কোনো কনভার্টার য়-এর নিচের ফোঁটাটা (়) বিজয়ে না বদলে ইউনিকোড অবস্থাতেই রেখে দেয়। পর্দায় প্রায় চোখেই পড়ে না, কিন্তু সুতনি এমজে এই চিহ্ন চেনে না। ছাপার সফটওয়্যারে সেখানে বাক্স বা অদ্ভুত চিহ্ন দেখা দিতে পারে।
নিয়মটা সোজা: ঠিকঠাক বিজয় লেখায় একটাও ইউনিকোড বাংলা অক্ষর থাকার কথা নয়। সুতনি এমজে দেওয়ার পর কোথাও বাক্স বা অন্য ফন্টে আঁকা অক্ষর দেখলে বুঝবেন কিছু রয়ে গেছে।
৫. ইংরেজি শব্দ
ইউনিকোড থেকে বিজয়ে গেলে ইংরেজি অক্ষর বদলায় না। "Microsoft Word এ লিখুন" হয় Microsoft Word G wjLyb। কিন্তু পুরো লাইনে সুতনি এমজে দিলে "Microsoft Word"-ও বাংলা হিজিবিজি হয়ে যায়। কারণ সুতনি এমজের কাছে M মানে গ আর i মানে র।
সমাধান একটাই: ইংরেজি শব্দগুলোতে ইংরেজি ফন্ট। বক্সে কাজ করলে "ইংরেজি শব্দ রাখুন" অপশন চালু রাখুন। টুল কোন শব্দগুলো ইংরেজি হিসেবে রেখেছে, তার তালিকা দেখায়। সেই তালিকা ধরে ওয়ার্ডে শব্দগুলোর ফন্ট বদলে নিন। ওয়ার্ড ফাইল দিলে এই কাজটা আর লাগে না।
সাবধানতা ও সীমা
- উল্টো পথে মিলিয়ে দেখুন। বিজয় ফলাফলটা কপি করে বিজয় থেকে ইউনিকোড বক্সে দিন। যা ফিরে আসে, তা আপনার মূল লেখার সাথে মেলান। কোনো যুক্তাক্ষর ভাঙলে এখানেই ধরা পড়বে। টুল কোনো অক্ষর চিনতে না পারলে সেটা ফেলে না দিয়ে দাগিয়ে দেখায়।
- কঠিন শব্দে চোখ বুলান। সূক্ষ্ম, ফেব্রুয়ারি, স্বাস্থ্য, বৈচিত্র্য, রাষ্ট্র, স্ত্রী, প্রকাশিত। এই ধরনের শব্দেই কনভার্টারগুলো সবচেয়ে বেশি ভুল করে।
- প্রেসের কম্পিউটারে একটা নমুনা দেখে নিন। ছাপার আগে তাদের কম্পিউটারে এক পাতা খুলে দেখা সবচেয়ে নিরাপদ। বিজয়ের পুরনো আর নতুন কোডে কিছু অক্ষর আলাদা, সেটা এখানে বিস্তারিত বলা আছে: পুরনো বিজয় আর নতুন বিজয় কোড।
- ইউনিকোড কপিটা রেখে দিন। বিজয় কপিটা শুধু প্রেসের জন্য। সংশোধন লাগলে ইউনিকোড কপিতে করুন, তারপর আবার বিজয় বানান। কেন, তা পড়ুন: বিজয়ে লেখা পুরনো ডকুমেন্টে সার্চ কাজ করে না কেন।
ফন্ট আর এনকোডিংয়ের পার্থক্য নিয়ে ধাঁধা থাকলে: নিকস, সুতনি এমজে আর ইউনিকোডের পার্থক্য।
যা প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়
ইউনিকোড থেকে বিজয় করার পর লেখা ইংরেজি হিজিবিজি দেখাচ্ছে। ভুল হয়েছে?
না, এটাই হওয়ার কথা। বিজয় লেখা ইংরেজি অক্ষর দিয়েই জমা থাকে। লেখাটা সিলেক্ট করে সুতনি এমজে ফন্ট দিলে বাংলা দেখাবে।
বিজয় করার পর ইংরেজি শব্দগুলো বাংলা হয়ে গেছে। কেন?
ইংরেজি শব্দে সুতনি এমজে ফন্ট পড়েছে বলে। সুতনি এমজে প্রতিটা ইংরেজি অক্ষরকে বাংলা হিসেবে আঁকে। ইংরেজি শব্দগুলো সিলেক্ট করে ইংরেজি ফন্ট দিন, অথবা পুরো ওয়ার্ড ফাইলটা টুলে দিন; তাহলে ইংরেজি লেখা নিজের ফন্টেই থাকে।
কোটেশন চিহ্ন ছাপায় অন্য অক্ষর হয়ে গেল কেন?
সুতনি এমজে ফন্টে বাঁকা কোটেশনের কোডগুলো বাংলা অক্ষরের টুকরো, যেমন উ-কার বা চ্। বিজয়ে কোটেশনের আলাদা কোড আছে। রূপান্তরের সময় কোটেশন সেই কোডে না বদলালে ছাপায় টুকরোগুলো বসে যায়।
বাংলা অঙ্কগুলো বিজয়ে ইংরেজি হয়ে গেল কেন?
বিজয়ে বাংলা অঙ্ক ইংরেজি অঙ্ক দিয়েই লেখা হয়, আর সুতনি এমজে ফন্ট সেগুলোকে বাংলা অঙ্কে দেখায়। ফন্ট দেওয়ার পর ঠিক দেখাবে।
প্রেসের কম্পিউটারে কী লাগবে?
সুতনি এমজে ফন্ট ইনস্টল থাকতে হবে। ফন্ট না থাকলে বিজয় লেখা ইংরেজি হিজিবিজি হিসেবেই দেখাবে।